টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির ডি লিট সম্মানে ভূষিত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়

সিনেমা আর মঞ্চের স্বর্ণযুগের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করল টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের জাদুকরী শক্তিতে মুগ্ধ করে রাখা এই বরেণ্য অভিনেত্রীকে এমন বিরল সম্মানে সম্মানিত করার ক্ষণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের বর্ণময় জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী।

বিজ্ঞাপন

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ছোটবেলায় যখন বাংলাদেশে থাকতেন, তখন এক নেতার বক্তৃতা শুনে ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেই বয়সে গ্রামাফোনের চোঙা হাতে গ্রামময় ‘পেটে ভাত দেব, কাজ দেব’ বলে চিৎকার করে বেড়াতেন তিনি। অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক থাকলেও তখনো ভাবেননি অভিনয়ের মঞ্চই হবে তাঁর শেষ ঠিকানা। সাবিত্রীর ভাষায়, মানুষ যা চায় সব সময় তা হয় না, নেতা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও ভাগ্য তাঁকে অভিনেতা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নিজের জন্মলগ্ন নিয়েও এক রসালো ও আবেগঘন স্মৃতি ভাগ করে নেন তিনি। পরিবারে দশ বোনের একজন তিনি। তাঁর জন্মের সময় পরিবারের সবাই পুত্রসন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন, তাই কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবরে বাড়ির সবাই কান্নাকাটি শুরু করেছিলেন। এমনকী তাঁর দিদিরা বোন হয়েছে শুনে ভয়ে সেদিন আর বাড়িই ফেরেনি। সেসব দিনের কথা মনে করে একসময়ে দুঃখ পেলেও, এখন তিনি সেসব স্মৃতিকে কেবলই জীবনের কৌতুহল হিসেবে দেখেন।

উত্তম কুমারের সঙ্গে রূপালী পর্দায় সাবিত্রীর রসায়ন আজও বাংলা চলচ্চিত্রের অমূল্য সম্পদ। ৮৯ বছর বয়সে এসেও তিনি তারুণ্যের শক্তিতে বলীয়ান। ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের অকাল সমাপ্তির পর কিছুটা বিরতি নিলেও, তাকে ফের পর্দায় দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন অনুরাগীরা।

বিজ্ঞাপন

খবর মিলেছে, জনপ্রিয় চ্যানেল স্টার জলসায় সম্প্রচারিত ‘সংসারের সংকীর্তন’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ফের অভিনয় জগতে ফিরছেন তিনি। মজার গল্পের মোড়কে সাজানো এই ধারাবাহিকে সাবিত্রীর উপস্থিতি গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এই সিরিয়ালে তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়, বরং অতিথি শিল্পী হিসেবে বিশেষ কয়েকটি পর্বে দর্শকদের চমক দেবেন। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখনো সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের এই বর্ণিল পথচলা বাংলা বিনোদন জগতের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

0%
0%
0%
0%