না ফেরার দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশনের কিংবদন্তি নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমান

বাংলা টেলিভিশনের সোনালি যুগের উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত নির্মাতা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই কিংবদন্তি নির্মাতার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। রোববার সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উত্তরায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ জীবনে ডায়াবেটিস ছাড়া অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন না তিনি। শেষ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎ এই প্রয়াণে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রখ্যাত এই নির্মাতার দুই সন্তান তানভীর রানা মুস্তাফিজ কানাডার টরন্টোতে এবং রাজিন অভি মুস্তাফিজ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত আছেন। সন্তানদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় মুস্তাফিজুর রহমানের মরদেহ বর্তমানে মহাখালীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। তাঁরা ফিরে আসার পরই শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
১৯৪৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বাংলা টেলিভিশন নাটকের বিকাশে এক অবিসংবাদিত নাম। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সোনালি সময়ে তাঁর সৃজনশীল নির্দেশনায় নির্মিত ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘এইসব দিনরাত্রি’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’-এর মতো কালজয়ী কাজগুলো আজও দর্শক হৃদয়ে গেঁথে আছে। টেলিভিশন প্রযোজনায় নিজস্ব নির্মাণশৈলী ও দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রেখে তিনি আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।
শুধু একজন নির্মাতা হিসেবেই নয়, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরবর্তীকালে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলাভিশন’ ও ‘গাজী টিভি’র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন গণমাধ্যম জগতের অসংখ্য নির্মাতা, কলাকুশলী ও উপস্থাপকের অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। নতুন প্রতিভার বিকাশে তাঁর অকৃত্রিম আন্তরিকতা এবং সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ তাঁকে এ দেশের টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে অমর করে রাখবে। তাঁর বিদায়ে টেলিভিশন শিল্প এক অভিভাবকশূন্য অভিভাবককে হারাল।