আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচনে এগিয়ে পিএমএলএন, নিরবচ্ছিন্ন ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার মিরপুর বিভাগের ১৩টি নির্বাচনী আসনে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পাঁচটি এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) দুটি আসনে জয়লাভ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মিরপুর, ভীম্বর ও কোটলি—এই তিনটি জেলায় মোট ২৮৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ১৪ লাখ ভোটারের জন্য ২,৩১৬টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে নিরাপত্তা বিবেচনায় ১,২৪১টি কেন্দ্রকে অতি সংবেদনশীল এবং ৭২৪টি কেন্দ্রকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ১৮,৫৬০ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২,১০০ জন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, এলএ-২ মিরপুর-২ আসনে পিপিপি প্রার্থী কাসিম মাজিদ ১২,৯০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিএমএল-এনের আজিম বখশ চৌধুরী পেয়েছেন ৮,১৮২ ভোট। এলএ-৩ মিরপুর-৩ আসনে পিপিপির চৌধুরী ইয়াসির সুলতান ১১,৬৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, আর পিএমএল-এনের চৌধুরী মুহাম্মদ সাইদ পেয়েছেন ৯,৮৩২ ভোট। এলএ-৪ মিরপুর-৪ আসনে ২০,১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন পিএমএল-এনের রুকসার আহমেদ।
কোটলি অঞ্চলের ফলাফলের ক্ষেত্রে, এলএ-৯ কোটলি-২ আসনে পিএমএল-এনের উমায়ের নিয়াজি ৩১,০৮০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিপিপির জাভেদ ইকবাল বুধানভি পেয়েছেন ২৮,৫১০ ভোট। এলএ-১৩ কোটলি-৬ আসনে পিএমএল-এনের রাজা আয়াজ আহমেদ খান ২১,৮৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া ভীম্বরের এলএ-৭ ভীম্বর-৩ আসনে ৩৫,৪৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন পিএমএল-এনের চৌধুরী তারিক ফারুক।
অন্যদিকে, এলএ-১ মিরপুর-১ আসনে ১৫,৪২৭ ভোট পেয়ে পিএমএল-এনের আজহার সাদিক জয়ী হয়েছেন। এলএ-৮ কোটলি-১ আসনে পিপিপির জাফর ইকবাল মালিক ১৯,৫৩৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এবং এলএ-১১ কোটলি-৪ আসনে পিএমএল-এনের মুহাম্মদ আসিফ ২৬,১৯০ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়ায়। পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এবং পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিসহ শীর্ষ নেতারা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে প্রচারণার শেষভাগে উভয় দলের পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রভাবিত করা এবং কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তোলে। বর্তমানে বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনা চলমান রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ