আর্জেন্টিনার কাছে বিতর্কিত হার মানতে নারাজ মিশর ফিফার দ্বারস্থ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছে মিশর। ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, ম্যাচের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির ভুল প্রয়োগ এবং মাঠের রেফারিদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। মিশরের ফুটবল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কিছু নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে খেলার ফলাফল সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে, যা তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচটির শেষ ১১ মিনিট বাকি থাকতেও মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অঘটনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু এরপরই নাটকীয় মোড় নেয় খেলা এবং মাত্র কয়েকটি মুহূর্তের ব্যবধানে তিন গোল খেয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচটি নিজেদের করে নেয়। ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাদের মতে, ম্যাচের অখণ্ডতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এই বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোল বাতিল হওয়ার ঘটনা। ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে গোলের আগে মিশরের এক খেলোয়াড় ফাউল করেছেন দাবি করে গোলটি বাতিল করা হয়। এছাড়া ম্যাচের শেষ দিকে হামদি ফাতি পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। এরপর প্রতি-আক্রমণ থেকে ৯২ মিনিটে আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোলটি আদায় করে নেয়। এ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রখ্যাত ফুটবল বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভিএআর প্রযুক্তির এই সিদ্ধান্ত ছিল অযৌক্তিক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক রব গ্রিন এবং তারকা স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারারসহ অনেক ফুটবল বোদ্ধাই প্রশ্ন তুলেছেন ভিএআর-এর কার্যকারিতা নিয়ে। তাদের দাবি, মাঠের রেফারি যেখানে কোনো ফাউল দেখেননি, সেখানে ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। একইসঙ্গে মোহাম্মদ সালাহর ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক আর্সেনাল তারকা ইয়ান রাইট। ইমলিওন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইক এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেছেন, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ভুল কমানো, কিন্তু এই ম্যাচে তার উল্টো প্রভাবেই খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা ও অবিচারের বোধ তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিফা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।