তারকা দ্যুতি ছাপিয়ে বিতর্কের আবর্তে ডব্লিউএনবিএ অলস্টার গেম

ডব্লিউএনবিএ’র ইতিহাসে অন্যতম সেরা সময় পার করছে নারী বাস্কেটবল লিগটি। মাঠের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে বিনিয়োগ এবং খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকও। কিন্তু মাঠের বাইরের নানা বিতর্কিত ইস্যু এখন আচ্ছন্ন করে ফেলেছে লিগের এই স্বর্ণালী সময়কে। বর্ণবাদ, লিঙ্গ বৈষম্য এবং যৌন পরিচয় নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ডব্লিউএনবিএ অল-স্টার গেম। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও যেন এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কগুলো।
ইন্ডিয়ানা ফিভারের তারকা খেলোয়াড় কেইটলিন ক্লার্ক এবং ফিনিক্স মার্কারির ফরোয়ার্ড অ্যালিসা থমাসের মধ্যকার সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর বর্ণবাদ নিয়ে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই ঘটনা শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ডব্লিউএনবিএ কমিশনার ক্যাথি এঙ্গেলবার্টের নেতৃত্বের সমালোচনাও সামনে নিয়ে এসেছে। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত যে হয়রানি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের শিকার তারা হচ্ছেন, তা রোধে লিগ কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক কেত্রা আর্মস্ট্রংয়ের মতে, এটি উদযাপন করার মতো সময় হলেও অগ্রগতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অতীতেও ডব্লিউএনবিএ’র দীর্ঘ যাত্রায় লিঙ্গ ও বর্ণবাদের মতো বিষয়গুলো ছায়া হয়ে ছিল। তবে নারী বাস্কেটবলের এই অভাবনীয় প্রসারের যুগে বিতর্কগুলো এখন অনেক বেশি প্রকাশ্য ও তীব্র। সাউদার্ন ইউটা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ ডেভিড বেরি মনে করেন, কোনো লিগ যখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, তখন এই ধরণের বিতর্কগুলো স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে।
বিতর্কের ঢেউ আছড়ে পড়েছে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের বিষয়েও। লাস ভেগাস এইসের খেলোয়াড় ব্রায়ানা টার্নার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ানা ফিভার গত মৌসুমে এক পুরুষ কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বরখাস্ত করেছিল। একই সময়ে ইন্ডিয়ানার সোফি কানিংহামের ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের নিয়ে মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কানিংহামের দাবি, নারী ক্রীড়াঙ্গনে জৈবিক পুরুষদের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন, যা লিগের ভেতরে-বাইরে প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
এর পাশাপাশি টরন্টো টেম্পোর কোচ স্যান্ডি ব্রন্ডেলো কর্তৃক আটলান্টা ড্রিমের অ্যাঞ্জেল রিইসকে ‘সুরক্ষিত প্রজাতি’ বা প্রোটেক্টেড স্পিসিস হিসেবে অভিহিত করার ঘটনাটিও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ব্রন্ডেলো তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং রিইস তা গ্রহণ করেছেন, তবুও লিগের ওপর এই ধরণের শব্দচয়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মাঠে শারীরিক সক্ষমতার লড়াইয়ের চেয়ে এখনকার গণমাধ্যম সব কিছুকেই অনেক বড় করে দেখছে, যা বাস্কেটবলকে ছাপিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।
কেইটলিন ক্লার্ক বারবার মাঠের বাইরের এসব ‘গোলমাল’ উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি নিজেই এখন এই বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। ক্লার্কের ভাষায়, মাঠের বাইরে পা রাখলেই যখন বাস্কেটবলের চেয়ে অন্য বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে হয়, তখন তা মানসিক ক্লান্তি তৈরি করে। সব মিলিয়ে, ডব্লিউএনবিএ এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে যেমন বাস্কেটবলের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী, অন্যদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার মতো মৌলিক সংকটগুলো লিগের ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।