ডাকযোগে ভোটদান সীমিত করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ প্রশাসন

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডাকযোগে ভোটদান প্রক্রিয়ায় বিধিনিষেধ আরোপের যে উদ্যোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখন দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে গড়িয়েছে। বিচারিক আদালতের একটি আদেশ স্থগিত করতে সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালত রায় দিয়েছিল যে, অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী বিধিনিষেধ পরিবর্তনের কোনো আইনগত এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যার লক্ষ্য ছিল ফেডারেল সংস্থাগুলোর সহায়তায় ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এই আদেশের আওতায় ডাকবিভাগকে কেবল নির্দিষ্ট তালিকার ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া অযোগ্য ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানোর অভিযোগে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনাও ছিল সেই আদেশে।

তবে জুন মাসে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইন্দিরা তালওয়ানি ট্রাম্প প্রশাসনের এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। রায়ে বিচারক স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী ভোটারদের যোগ্যতা নির্ধারণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার পূর্ণ অধিকার অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ২৩টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে এই আদেশের প্রভাব পড়ার কথা ছিল, যা নিম্ন আদালতের রায়ের কারণে আপাতত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আপিল করেও কোনো সুরাহা পায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। এরপরই সরকারপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল জন সাওয়ারের দাবি, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশটি কেবল একটি নীতিগত নির্দেশনা মাত্র, কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। তিনি যুক্তি দেন যে, বিভিন্ন সংস্থা এখনো এই আদেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে, অথচ নিম্ন আদালত তড়িঘড়ি করে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য আগস্ট মাসের মধ্যেই এই নতুন নীতি কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রশাসন। রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারকদের মতে, ডাকযোগে ভোটদানের এই কঠোর নীতিমালা নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। যদিও ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই এবং গবেষণায় দেখা গেছে, ডাকযোগে ভোটদানে জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ডাকযোগে ভোটদানের সুযোগ সংকুচিত করা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ডেমোক্র্যাটিক দলের ভোটারদের ওপর। কারণ ঐতিহাসিকভাবেই ডেমোক্র্যাটরা ডাকযোগে ভোটদানে বেশি আগ্রহী। মূলত প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে, যে কারণে ভোটের এই জটিল আইনি লড়াই মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তাপ ছড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%