আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজমুকুট পরল স্পেন। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করল ‘লা রোজা’। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের তারুণ্যনির্ভর দল পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে যে আধিপত্য দেখিয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সফলতায় রূপ নিল। ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটিই গড়ে দিল ব্যবধান, যা আর্জেন্টিনাকে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে দিল।
টুর্নামেন্টের শুরুটা অবশ্য স্পেনের জন্য সুখকর ছিল না। আটলান্টায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা সংশয়ে ফেলে দিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল ও পেদ্রিরা। তবে সেই হতাশাকে পেছনে ফেলে দ্রুতই ছন্দে ফেরে স্পেন। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবকে হারিয়ে এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তির জানান দেয় তারা। অস্ট্রিয়াকে অনায়াসে হারানোর পর পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাইকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের ফাইনালে ওঠা ছিল দে লা ফুয়েন্তের এক ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস। দানি ওলমো, রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের ত্রিফলা মিডফিল্ড পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রেখেছিল। ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে তারা আর্জেন্টিনাকে কোনো সুযোগই দেয়নি। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা পুরো ১২০ মিনিটে মাত্র দুবার গোলমুখে শট নেওয়ার সুযোগ পেলেও একটি শটও ছিল না লক্ষ্যভেদী।
টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল চীনের প্রাচীরের মতো অভেদ্য। পুরো টুর্নামেন্টে তারা হজম করেছে মাত্র একটি গোল। টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অপরাজেয় শক্তির জানান দিচ্ছে। দলের অন্যতম কাণ্ডারি মাইকেল ওয়ারজাবাল টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৫ গোল করে জয়ের নায়ক হয়েছেন। অন্যদিকে, গোল না পেলেও ১৯ বছর বয়সী সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল প্রতি ম্যাচেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, যা স্পেনের ভবিষ্যতের জন্য এক আশার আলো।
আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে স্পেনের জয়ের পথ আরও প্রশস্ত হয়। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলটি শুধু শিরোপাই নিশ্চিত করেনি, বিশ্ব ফুটবলকে নতুন এক যুগের বার্তা দিল। ২৬.১৯ গড়ে গড়া এই তরুণ দলটির অধিকাংশ খেলোয়াড়ের বয়স এখনো শিখরে পৌঁছায়নি। ২০৩০ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে এই দলটিই যে বড় ফেভারিট হয়ে নামবে, তা এখন অনুমেয়। দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করার পর স্পেন এখন পরবর্তী ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও ভবিষ্যতের সাফল্যের নতুন নীল নকশা তৈরিতে ব্যস্ত।