AdvertisementAdvertisement

প্রবল দাবদাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ: পানি সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন ও কৃষিখাত

ইউরোপজুড়ে আবারও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ মহাদেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাসে জনজীবনে চরম অস্বস্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জুন ও জুলাই মাসের রেকর্ডভাঙা উষ্ণতা, দাবানল এবং খরার ধকল কাটতে না কাটতেই নতুন এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটিশ পরিবেশ সংস্থার পরিচালক টনি গ্রে লিং জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া কৃষি খাতকে বিপর্যস্ত করে তুলছে এবং পরিবেশের ওপর এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকার কৃষকদের সেচ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির অপচয় রোধে হোসপাইপ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এখন পানি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার আওতায় রয়েছেন। চলতি বছরে এটি ব্রিটেনের পঞ্চম তাপপ্রবাহ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, তীব্র খরা ও ক্রমাগত তাপপ্রবাহের কারণে দেশটির ৭০ শতাংশ অঞ্চলে পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাগান বা সবুজায়ন এলাকায় পানি দেওয়া, সুইমিং পুল ভরাট করা, গাড়ি ধোয়া এবং ফসলের সেচ কার্যক্রমের মতো কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটি জানিয়েছে, ১৯৬১ সালের পর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসটি ছিল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ মাস। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর হিমশিম অবস্থা। স্থানীয় জরুরি সেবার প্রধান আন্তোনিও সানজ জানিয়েছেন, নিবলা নামক মধ্যযুগীয় শহরের আশেপাশে আগুন নেভানোর কাজ একটি দীর্ঘ ও কঠিন যুদ্ধের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় এলাকাটি থেকে প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় ইউরোপ সবচেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে। এদিকে, জার্মানির রাইন নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থা বিডিবি জানিয়েছে, পানির স্তর আরও নিচে নামলে নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে, যা পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরিতেও তাপমাত্রা তীব্র হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%