AdvertisementAdvertisement

পিকেকে যোদ্ধাদের শর্তসাপেক্ষে সাধারণ ক্ষমার আইন পাস তুরস্কে

দীর্ঘ কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে বড় ধরনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে তুরস্ক। দেশটির আইনপ্রণেতারা নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে সদস্যদের জন্য শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করেছেন। সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৪৬৮ জন আইনপ্রণেতা বিলটির পক্ষে এবং ৮৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন, যেখানে ছয়জন ভোটদানে বিরত ছিলেন।

এই নতুন আইনের মাধ্যমে অস্ত্র সমর্পণকারী পিকেকে যোদ্ধাদের বেসামরিক জীবনে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে কোনো ধরনের পূর্ণাঙ্গ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়নি। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত পিকেকে ১৯৮৪ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিল। সেই থেকে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই সহিংসতায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কারাবন্দি পিকেকে প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ ওচালান তার অনুসারীদের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানোর ১৮ মাস পর তুরস্ক সরকার এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং প্রো-কুর্দিশ ডেম পার্টির যৌথ সমর্থনে পাস হওয়া এই বিলে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য আইনি কার্যক্রম ও কারাদণ্ড স্থগিতের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনপ্রণেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পিকেকে সংশ্লিষ্ট বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে, যা বর্তমানে তুরস্কের কারাগারে আটক থাকা মোট বন্দির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই সংঘাত তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় কেবল গভীর অর্থনৈতিক সংকটই সৃষ্টি করেনি, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। নতুন এই আইনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাপ্তি ঘটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%