ওমানের উপকূলে রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের ট্যাঙ্কার থেকে ভয়াবহ তেল নিঃসরণ: হুমকির মুখে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য

ওমানের দক্ষিণ উপকূলে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কার থেকে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই তেলস্তরটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওমান এনভায়রনমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, এই নিঃসরণ উপকূল থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে, যা দেশটির অনন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল প্রাচীরের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এএফপি-র প্রতিবেদন ও শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা থেকে জানা যায়, ‘ক্যারোলাইন বেজেঙ্গি’ নামের জাহাজটি রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে তেল নিয়ে এশিয়া অভিমুখে যাত্রা করেছিল। গত জুন মাসের শুরুর দিকে ওমানের আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের কাছে একটি বিস্ফোরণের পর থেকে জাহাজটি সেখানেই আটকা পড়ে আছে। গ্রিনপিস ও ডাচ সংস্থা প্যাক্স-এর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যার নিঃসরণ ইতোমধ্যে একটি বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে জাহাজটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের অংশ হিসেবে পরিচিত। মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো এই ধরনের পুরোনো ও অনিরাপদ জাহাজগুলো ব্যবহার করে থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই প্রশ্নের মুখে ছিল।
ওমানের সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পরিবহন মন্ত্রণালয় পরিস্থিতির ওপর আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে তেল অপসারণের জন্য ডুবুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে। সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদ গত বছর হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যা এখন বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর অভয়াশ্রম হিসেবে বিবেচিত। তবে এই তেল নিঃসরণের মূল কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ওমানি কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
