AdvertisementAdvertisement

ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য মুসলিম বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন পাওয়া মুসলিম প্রার্থীদের ‘জিহাদি’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। মিশিগানের প্রাইমারি নির্বাচনে আব্দুল এল-সায়েদের জয়লাভের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য রিপাবলিকান শিবিরে ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির ব্যানারে কার্যত ‘জিহাদিদের’ নির্বাচিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন যে, অন্য দেশে যা ঘটছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারক ও আইনপ্রণেতাদের একাংশও এখন ট্রাম্পের সুরেই মুসলিম রাজনীতিবিদদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের এই বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স বা কেয়ার। সংগঠনটির জাতীয় উপ-পরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল সতর্ক করে বলেছেন, রাষ্ট্রপ্রধানের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গত তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড যে হারে বাড়ছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সেই আগুনকে আরও প্রজ্বলিত করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রেসিডেন্টের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আব্দুল এল-সায়েদকে নিয়ে কেবল ট্রাম্পই নন, রিপাবলিকান পার্টির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও বিষোদগার করছেন। সাউথ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস এবং আলাবামার সিনেটর টমি টিউবারভিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এল-সায়েদকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘উগ্রবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতাকে পুঁজি করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৯০ দিনের কম সময় বাকি থাকতে ক্ষমতার লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৪টি আসনে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক সংকটের পাশাপাশি ট্রাম্পের এই নতুন উস্কানির মুখে পড়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশজুড়ে এমন মেরুকরণ ও বিদ্বেষী পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%