AdvertisementAdvertisement

সিউতায় শরণার্থী সংকট চরমে: বহিষ্কার ও আটকের দাবি স্থানীয় প্রশাসনের

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রবেশ করা হাজার হাজার অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। গত জুলাই মাসের শেষে সমুদ্রপথে দলে দলে মানুষের এই অনুপ্রবেশ অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এই সংকটময় পরিস্থিতির কারণে সেউতার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন হুমকির মুখে।

সেউতার মেয়র-প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস বিভাস এই পরিস্থিতিতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে অভিবাসীদের আটকের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। রক্ষণশীল পপুলার পার্টির নেতা বিভাস সাংবাদিকদের জানান, রাজপথে ভবঘুরে হয়ে থাকা অভিবাসীদের অবিলম্বে নির্দিষ্ট স্থানে বন্দি করা প্রয়োজন, যাতে দ্রুতগতিতে তাদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। তিনি স্থানীয় সড়কে অভিবাসীদের অবাধ বিচরণ বন্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হালনাগাদকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে প্রায় ৮০ হাজার অনিয়মিত অভিবাসী সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ৭০ হাজার অভিবাসীকে দ্রুত মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর দাবি করেছে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে হাজার হাজার মানুষ এখনো সেখানে অবস্থান করছেন, যাদের মধ্যে শত শত অনাথ শিশুও রয়েছে। স্পেনের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অনাথ শিশুদের তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা সম্ভব নয় বিধায় তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হিমশিম খাওয়ার দশা হয়েছে।

মেয়র বিভাসের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৮ হাজার থেকে ১১ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন, যা ওই অঞ্চলের সম্পদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৫০০ বলে জানানো হয়েছে, তবে এই বৈপরীত্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। সেউতার বাসিন্দারাও গত রোববার অভিবাসন সংকটের প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন, যা এই অঞ্চলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী রক্ষণশীল দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। স্পেনের আঞ্চলিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী আনহেল ভিক্টর তোরেস স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ এবং ৪০ শতাংশ বেশি সিভিল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমানায় এই বিপুল জনস্রোতের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পেন তথা গোটা ইউরোপজুড়ে এখন গভীর উদ্বেগের ছায়া বিরাজ করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%