AdvertisementAdvertisement

মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

সিরিয়ার দীর্ঘ চোদ্দ বছরের গৃহযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, পরিকল্পিত হত্যা এবং নির্যাতনের দায়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ তার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দামেস্কের চতুর্থ অপরাধ আদালত। মঙ্গলবার ঘোষিত এই ঐতিহাসিক রায়ে বাশার আল-আসাদের পাশাপাশি তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত বাশার আল-আসাদ এবং তার ভাই মাহের আল-আসাদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালানোর মূল হোতা ছিলেন আতেফ নাজিব। গত বছরের জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার হওয়া নাজিবের বিরুদ্ধে শিশুদের পরিকল্পিত হত্যা এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অমানবিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান জানিয়েছেন, আদালতে নিজের অপরাধ অস্বীকার করলেও নাজিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনার লক্ষণ দেখা যায়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাশার আল-আসাদের মন্ত্রিসভার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফাহদ আল-ফরিজ এবং ২০১১ সালে দেরা প্রদেশের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লোয়াই আল-আলিসহ আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এটি স্পষ্ট যে, বাশার আল-আসাদ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এসব অপরাধ সংঘটনে প্রধান নীতিনির্ধারকের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সাবেক শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের বিচারের আওতায় আনার এটিই প্রথম বড় উদ্যোগ। এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের স্বজন হারানো এবং নির্যাতনের শিকার সিরীয় জনগণের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রায় ঘোষণার পর দামেস্কের আদালতের বাইরে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগীদের ছবি হাতে নিয়ে ভিড় করেন, যা দেশটির পরিবর্তিত পরিস্থিতির জানান দেয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, রায়ের পর থেকেই সিরিয়া সরকার রাশিয়ায় আশ্রিত বাশার আল-আসাদকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে মস্কো ঐতিহাসিকভাবে আসাদের মিত্র হওয়ায় এবং তাকে আশ্রয় প্রদান করায় খুব সহসাই এই অবস্থানের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, বৈরুতসহ অন্যান্য দেশে পালিয়ে থাকা আসাদ আমলের কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে নতুন সিরীয় প্রশাসন। সরকার আশা করছে, বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব হবে। এই আইনি প্রক্রিয়া কেবল আসাদের জন্যই নয়, বরং তার শাসনামলে নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি খুনিকে বিচারের আওতায় আনার একটি শক্তিশালী নজির হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%