অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে অগ্নিপরীক্ষায় জাম্বিয়ার সাধারণ নির্বাচন

আগামী ১৩ই আগস্ট জাম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন, যা দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কারের কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাম্বিয়ার নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা এবং বিরোধী জোট ‘তোনসে অ্যালায়েন্স’-এর ব্রায়ান মুন্দুবিলের মতো প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বর্তমান সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় ঋণ পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। জাম্বিয়া পরিসংখ্যান সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ৬.৮ শতাংশে নেমে এলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকে উন্নতির চেয়ে ভোটারদের কাছে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।
মানবাধিকার কর্মী ও প্রবীণ সাংবাদিক জোয়ান চিরওয়া আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ঋণ পুনর্গঠন বা সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক ইতিবাচক হলেও এর সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সাধারণ নাগরিকরা এখন সরকারের কাছে কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার গল্প শুনতে আগ্রহী নন, বরং তারা নিজেদের গৃহস্থালি আয়ে প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে চান। রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ওয়েলিংটন মুজেঞ্জেজা মনে করেন, নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের দাবি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যকার ব্যবধান।
দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে তামা। জাম্বিয়ার মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি আসে তামা শিল্প থেকে। বর্তমান সরকার বার্ষিক তামা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করলেও, সাধারণ ভোটারদের প্রশ্ন—এই বিশাল আয়ের কতটুকু অংশ বৃহত্তর অর্থনীতির উন্নয়ন এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যয় হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ লেভি এনডোর মতে, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত দেশের ৬০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া এবং খনিজ সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে জাম্বিয়া দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে এবারের নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং হিচিলেমা সরকারের বিগত বছরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর এক চূড়ান্ত রায়। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত ও জনগণের জীবনযাত্রার পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা-ই এখন দেশটির কোটি জনতার প্রধান আলোচ্য বিষয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
