গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার ভয়াবহ বিস্তার দুই হাজার মানুষের মৃত্যু

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির পাঁচটি প্রদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও পরিস্থিতি এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেবল গত তিন সপ্তাহেই এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই মরণব্যাধিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে মোট ৪ হাজার ৩৮১ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে এটিই এখন পর্যন্ত রেকর্ডকৃত দ্রুততম প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইতিহাসের ভয়াবহতার দিক থেকে এটি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকান মহামারির পরেই অবস্থান করছে, যেখানে সেই সময় ১১ হাজার ৩১০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
এই সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া থাকায় তাদের কর্মবিরতি, সামাজিক কুসংস্কার এবং ভুল তথ্যের বিস্তার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মৃতদেহ নিয়ে প্রচলিত পারিবারিক দাফন প্রথা বজায় রাখায় ভাইরাসটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, টিকা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান থাকলেও কার্যকর ফলাফল পেতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।
এদিকে, কঙ্গো থেকে ফেরা একজন নাগরিকের শরীরে ইবোলার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্কতা জারি করেছে। জ্বরে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে বর্তমানে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও মূলত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই দেশটিতে ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
