এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুজব ছড়ানোর কঠোর সমালোচনা শিক্ষামন্ত্রীর

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের এখতিয়ার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার রাজধানীর বার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগে তা যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, যা হুট করে মন্ত্রীর একক সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করা যায় না।
শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের কোনো একটি রেজুলেশনের খসড়া আলোচনার অংশবিশেষ বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রেজুলেশনের ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রী তা পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর প্রজ্ঞাপন জারির নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই তথ্য ফাঁস করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ন্যস্ত করার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করেন মন্ত্রী। গুজবের পেছনে না ছুটে প্রকৃত সত্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চিলের পেছনে না ছুটে নিজের কান ঠিক আছে কি না, তা আগে পরীক্ষা করা উচিত।
শিক্ষামন্ত্রী এ সময় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৮ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি স্কুলগুলোতে ১২ হাজার এবং প্রাথমিক স্তরে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি বিদ্যমান।
এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজগুলোতে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক পদ খালি থাকার তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই সংকট গত পাঁচ মাসে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই সমস্যার সমাধানের চেয়ে গুজবের দিকে নজর না দিয়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
