কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৫০ জনের প্রাণহানি উদ্ধার তৎপরতা জোরদার

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা রিখটার স্কেলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে ক্যালি, পেরেইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার উপকেন্দ্র ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে সান হোসে দেল পালমার অঞ্চলে। রাজধানী বোগোতা থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ক্যালি শহরটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে কেবল এক শহরেই ৩৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া। এছাড়া রিসারালদা অঞ্চলে ৪০ জন, চোকো অঞ্চলে ৯ জন, কালদাস অঞ্চলে ২ জন এবং আন্তিওকিয়া অঞ্চলে একজন বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ভ্যায়ে দেল কাউকা এলাকাতেই আহত হয়েছেন অন্তত ৭০০ মানুষ।
প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারে মানবিক শিকল তৈরি করে কাজ করে যাচ্ছেন। চোকো অঞ্চলটি দুর্গম হওয়ায় এবং নদী ও আকাশপথ ছাড়া সেখানে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রশাসন।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় অন্তত ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোপুরি ধসে পড়েছে। মানিসালেস শহরের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের টাওয়ার ধসে পড়ার পাশাপাশি ক্যালির একটি হাসপাতালের বেশ কয়েকটি তলা ভেঙে পড়ায় অনেক রোগী আটকা পড়েন। কারাকোল টেলিভিশনকে হাসপাতালের পরিচালক ইরনে তোরেস কাস্ত্রো জানিয়েছেন, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৬০০ রোগীকে খোলা আকাশের নিচে ধ্বংসস্তূপের ওপর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ২১ বার পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যালি, আরমেনিয়া ও মানিসালেসের মতো বড় শহরগুলোতে রাতের বেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং লুটতরাজ এড়াতে ক্যালিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এল সালভাদরসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও উদ্ধারকাজে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েয়া চোকো অঞ্চলের রাজধানী কিবদো পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়ি ভাড়ার ভর্তুকি প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময়টি জীবিত উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সময় নষ্ট না করে জোরেশোরে তল্লাশি অভিযান চলমান রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
