ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবদাহ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের উদ্যোগ

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়ে এক লাখ সাত হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাকৃতিক প্রভাব ‘এল নিনো’-এর কারণে সৃষ্ট শুষ্ক আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৫০ হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং ৪৩টি হেলিকপ্টার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুলগুলো টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশটির সুমাত্রা দ্বীপের রিয়াউ, জাম্বি ও দক্ষিণ সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশে দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মেয়র এডি রুসদি কামতোনো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাতাসের মান উন্নত না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের বাসায় থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান নিরাপত্তা মন্ত্রী জামারি চ্যানিয়াগো সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া আগুনের বিস্তৃতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে, যা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কৌশল হিসেবে ‘ক্লাউড সিডিং’ বা মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই পদ্ধতিতে সিলভার আয়োডাইড ও লবণের মতো রাসায়নিক মেঘের ভেতর ছিটিয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চ্যানিয়াগো জানান, আকাশে পর্যাপ্ত বৃষ্টির মেঘ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় এই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যমান দুর্যোগে প্রয়োজনীয় মেঘের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষায়িত বিমানগুলো অভিযানে নেমে পড়ছে।
বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আক্রান্ত বনভূমির পরিমাণ ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ১১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যেখানে প্রায় ৯০০ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নয় দিন ধরে চলা সেই আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট এই দুর্যোগের মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিচ্ছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
