AdvertisementAdvertisement

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট ব্রোমোসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল অর্ধলক্ষাধিক কর্মীর লড়াই

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট ব্রোমোসহ দেশটির বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক শুষ্ক মৌসুম এবং এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট এই অগ্নিসংকট মোকাবিলায় প্রায় ৫০ হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। রয়টার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পূর্ব জাভার ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ৭৪৩ হেক্টর বনভূমি ও তৃণভূমি ইতিমধ্যেই ভস্মীভূত হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই জাতীয় উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে মাউন্ট ব্রোমোর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পেনানজাকান এলাকাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দেশটির বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা ২০২৩ সালের মোট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্বিগুণেরও বেশি। জ্যাম্বি প্রদেশে প্রায় ৬ হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী মোতায়েন করা হলেও গভীর পিট মাটির প্রকৃতি, পানির অভাব এবং প্রতিকূল ভূখণ্ডের কারণে আগুন নেভানোর কাজ অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর ওপর প্রবল বাতাস পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়ক মন্ত্রী জামারি চানিয়াগো সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ক্লাউড-সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আগুন নেভানোর পরিকল্পনা থাকলেও উপযুক্ত মেঘের অভাবে তা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দমকল বাহিনীর কর্মীরা এখন একমাত্র ভরসা হিসেবে জলবর্ষণ বা ওয়াটার বোম্বিং পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছেন। বনমন্ত্রী রাজা জুলি আন্তোনি মাউন্ট ব্রোমো পরিদর্শনকালে সাধারণ মানুষকে আগুন জ্বালাতে পারে এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের রিয়াউ, জ্যাম্বি, দক্ষিণ সুমাত্রা এবং মধ্য ও দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশেও দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, এল নিনোর প্রভাবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দাবানলের ঝুঁকি আরও প্রকট হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার এই ধারা দীর্ঘায়িত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%