এসএসসিতে দেশজুড়ে শতভাগ অকৃতকার্য বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফলাফল বিপর্যয়ে জনমনে ক্ষোভ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। বেশ কয়েকটি জেলায় এমন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ফলাফলের এই শূন্য হার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাঁচজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। আটজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এমন ফলাফলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। একই চিত্র দেখা গেছে নওগাঁর পত্নীতলা ও বদলগাছী উপজেলায়। পত্নীতলার চকনোদবাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ১৯ জন পরীক্ষার্থী এবং বদলগাছীর জোলাপাড়া ইসলামিয়া ও গোবরচাপাহাট আখতার হামিদ সিদ্দিকী দাখিল মাদরাসার চারজন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং পাঠদানের অভাবই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর ও পঞ্চগড়ের বেশ কিছু বিদ্যালয় রয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর ও হরিপুর উপজেলার পাঁচটি বিদ্যালয়ের ২৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এছাড়াও নবাবগঞ্জের গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ২০ জন পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হওয়ায় স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত অনুপস্থিতি ও দায়সারা পাঠদানকে দায়ী করেছেন।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় দুটি এবং পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দুটি মাদরাসাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। নাগরপুরের আনোয়ার খান মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের আটজন এবং আগদিঘুলিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার একজন পরীক্ষার্থী সবাই ফেল করেছে। সাতক্ষীরার চারটি এবং রাজবাড়ী সদরের জালদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সাতজন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও আর্থিক সংকটের অজুহাতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন সন্দ্বীপের উড়ির চর জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষকরা, যেখান থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদেরও ‘বিশেষ বিবেচনায়’ চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় ফলাফলের এই বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে এবং সরকারি নীতি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের হতাশাজনক ফলাফলের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
