AdvertisementAdvertisement

যমুনার তীব্র ভাঙনে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের নদীপাড়ের মানুষ

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি বাড়তে থাকায় নদী তীরবর্তী চরগিরিস এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে স্থানীয় চরগিরিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কাজীপুরসহ জেলার সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যেই প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সিরাজগঞ্জের অভ্যন্তরীণ নদ-নদী যেমন গুমানী, গোহালা, বড় পাঙ্গাসী, ইছামতি, ফুলজোর, বাঙালি, বড়াল ও হুরাসাগর নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙন প্রতিরোধের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তাদের সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় থাকতে হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

চরগিরিস এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত দুই দিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে। মুহূর্তের মধ্যে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে, ফলে সহায়-সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময়টুকুও পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। চোখের সামনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি বিলীন হতে দেখে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত সাত দিন ধরে যমুনার পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় পানি ছয় সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধির এই ধারা আরও তিন-চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আপাতত বন্যা বা বিপৎসীমা অতিক্রম করার কোনো আশঙ্কা নেই বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষেরা সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

0%
0%
0%
0%