ফুলপুর ও তারাকান্দায় মাদকের থাবায় বিপন্ন যুবসমাজ রমরমা বাণিজ্যে জড়িত প্রভাবশালী চক্র

ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবাধে চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য, যার ফলে প্রতি মাসে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই অশুভ বাণিজ্যের মুনাফার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী, কথিত সাংবাদিক ও নেপথ্যের গডফাদারদের পকেটে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দুই উপজেলার কিশোর ও যুবসমাজের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখন মাদকাসক্ত। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরের অলিগলিতে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। হাতের নাগালে বিষাক্ত নেশাদ্রব্য পেয়ে শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের তরুণরা প্রতিনিয়ত সর্বনাশা পথে পা বাড়াচ্ছে, যা শত শত পরিবারের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এলাকায় বাংলা মদের পাশাপাশি ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, আইস এবং বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশনের সহজলভ্যতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু নীতিহীন হোমিও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে রেক্টিফাইড স্পিরিট সংগ্রহ করে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল মদ, যা অত্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। মাদক পরিবহনের জন্য মোটরসাইকেল, সিএনজি, মাইক্রোবাস ও পণ্যবাহী ট্রাক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ ও ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়ককে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাদকসংক্রান্ত অপরাধের কারণে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্তানকে নেশার হাত থেকে বাঁচাতে অনেক অভিভাবক নিরুপায় হয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। মাদকের এই আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের বর্তমান তৎপরতা অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন জানান, গত দুই মাসে থানায় ১২টি মাদক মামলায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে মাদক ব্যবসার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল রাশিদ একই ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন যে, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা মাদক নির্মূলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
