সাবেক ডিপিইউ প্রধান জেফরি ডোনাল্ডসনের বিরুদ্ধে অভিযোগের রূপরেখা দিলেন প্রসিকিউটর

উত্তর আয়ারল্যান্ডের অন্যতম আলোচিত এক মামলায় দেশটির প্রাক্তন এমপি এবং ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির সাবেক নেতা জেফরি ডোনাল্ডসনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। তার স্ত্রী এলেনর ডোনাল্ডসনের সহযোগিতায় তিনি এই অপরাধগুলো সংঘটিত করেছেন বলে নিউরি ক্রাউন কোর্টে প্রসিকিউটর জানিয়েছেন। গত বুধবার কাউন্টি ডাউনে এই উচ্চ-প্রোফাইল মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে জেফরি ডোনাল্ডসনকে অভিযুক্ত করা হয়, যেখানে আদালত জানতে পারে যে বহু বছর পর একটি গির্জার মধ্যস্থতায় আয়োজিত বৈঠকে তিনি ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

৬৩ বছর বয়সী জেফরি ডোনাল্ডসনের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ মোট ১৮টি যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো ১৯৮৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত এবং এর সাথে দুজন কথিত ভুক্তভোগী জড়িত। তার ৬০ বছর বয়সী স্ত্রী এলেনর ডোনাল্ডসনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অশোভন যৌন নিপীড়নে সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য তারা উভয়েই সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নীল স্যুট পরিহিত ডোনাল্ডসন এজলাসে আদালতের দুই কর্মীর মাঝখানে বসে প্রসিকিউটর রোজমেরি ওয়ালশের বক্তব্য শুনে নোট নিচ্ছিলেন। ওয়ালশ রাষ্ট্রপক্ষের মামলা তুলে ধরেন।

মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অক্ষম ঘোষিত হওয়ায় এলেনর ডোনাল্ডসন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে ‘ট্রায়াল অব ফ্যাক্টস’ (প্রমাণ পরীক্ষা) অনুষ্ঠিত হবে, যা অপরাধমূলক দন্ডের দিকে নিয়ে যাবে না। স্বামী-স্ত্রীর জন্য ভিন্ন আইনি দল নিয়ে দুটি বিচার কার্যক্রম একই সাথে পরিচালিত হবে।

বিজ্ঞাপন

পাঁচজন নারী ও সাতজন পুরুষ জুরিকে উদ্দেশ্য করে ওয়ালশ বলেন, এই বিচার প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলবে এবং এতে যে সকল প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে তার একটি রূপরেখা তিনি দেন।

বিচার চলাকালীন সময়ে সাক্ষী ‘এ’ এবং সাক্ষী ‘বি’ নামে পরিচিত দুজন অভিযোগকারীর প্রি-রেকর্ড করা সাক্ষাৎকার দেখানো হবে। ওয়ালশ জানান, এই দুজন নারী ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পুলিশকে তাদের শৈশবে ঘটে যাওয়া “কঠিন ও বেদনাদায়ক ঘটনার” কথা বলেছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই দুজন নারীকে ব্যারিস্টারদের দ্বারা জেরা করা হবে, কিন্তু তারা আদালতে উপস্থিত থাকবেন না।

জুরিরা ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ডোনাল্ডসন দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে দেওয়া তাদের রেকর্ডেড সাক্ষাৎকারও দেখবেন।

সাক্ষী ‘বি’ অভিযোগ করেন যে, তার বয়স ১১ বছর হওয়ার আগেই ডোনাল্ডসন বারবার তার প্যান্টের মধ্যে হাত ঢুকিয়েছিলেন। একবার তিনি তার বুকে হাত দিয়েছিলেন, তার যৌনাঙ্গে আঙুল ঢুকিয়েছিলেন, পা ফাঁক করে দিয়েছিলেন এবং যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন, যা তাকে “অসুস্থ বোধ” করিয়েছিল।

আরেকটি ঘটনায় তিনি অভিযোগ করেন যে, ডোনাল্ডসন তার টপ তুলে তার স্তনে হাত দিয়েছিলেন। সেই সময় এলেনর ডোনাল্ডসন ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে চলে গিয়েছিলেন।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কৈশোরকালে সাক্ষী ‘বি’ একটি খ্রিস্টান পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি একজন নারীকে কথিত নিপীড়নের কথা জানান। এর ফলে একটি গির্জার মধ্যস্থতায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডোনাল্ডসন তার অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি সেই ঘটনাটিকে “একটু অদ্ভুত ও পরাবাস্তব” বলে অভিহিত করেন।

গ্রেপ্তারের পর ডোনাল্ডসন পুলিশকে জানান যে তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়নি এবং ধর্ষণের অভিযোগটি “অবিশ্বাস্য” ছিল।

সাক্ষী ‘এ’ অভিযোগ করেন যে, ডোনাল্ডসন তার বুকে হাত দিয়েছিলেন এবং তার মুখে জিভ ঢুকিয়ে অনুপযুক্তভাবে চুম্বন করেছিলেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি হেসে এটিকে ঠাট্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পুলিশের কাছে আরও জানান যে, ডোনাল্ডসন তার চেহারা, বিশেষ করে তার স্তনের আকার নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।

বিচারক পল রামসে মঙ্গলবার জুরিদের জানান যে, ডোনাল্ডসন জনজীবনে সুপরিচিত ছিলেন এবং অন্য যেকোনো ব্যক্তির মতোই একটি ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। ডোনাল্ডসন ২০১৬ সালে ‘নাইট’ উপাধি লাভ করেন এবং গ্রেপ্তারের পর ২০২৪ সালে এমপি ও ডিইউপি নেতার পদ থেকে ইস্তফা দেন।

বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%