ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বালু বাণিজ্য নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ আহত ৩

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ছাগলনাইয়া-করেরহাট সড়কের শহীদ মিনারের সামনে জব্দকৃত বালু নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এই সহিংস ঘটনায় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আহতদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন টিপু নামের এক বিএনপি কর্মী রয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
হামলার শিকার রিয়াজ উদ্দিন টিপুর অভিযোগ, সরকারিভাবে জব্দকৃত বালু অবৈধভাবে বিক্রির প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার রাতে তাকে শহীদ মিনারের সামনে ডেকে নিয়ে ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আলমগীর ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ককটেলের আঘাতে এবং পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাত একটায় বেশ কয়েকটি মাইক্রোবাসযোগে ২৫ থেকে ৩০ জন হেলমেটধারী সশস্ত্র ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়। এরপরই সেখানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামছুদ্দিন জানান, আহত ব্যক্তির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই স্বজনরা তাকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর ছিদ্দিকীসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত আলমগীর ছিদ্দিকী তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি অসুস্থতার কারণে বিশ্রামে ছিলেন এবং এই হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বর্তমানে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।