ইরান-আমেরিকা সামরিক সংঘাত তীব্রতর, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা ও জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তজনা এখন পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক হামলায় এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর জেরে সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিধ্বংসী অভিযান চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্যমতে, এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের আড়ত এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করা। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব খর্ব করার পাশাপাশি মার্কিন সেনার প্রাণহানির সমুচিত জবাব দেওয়াই এই আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করেছে পেন্টাগন। অভিযানে যুদ্ধবিমান ও সমুদ্র থেকে নিক্ষেপ করা টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে এবং জর্ডানের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ইরান দাবি করেছে যে, তাদের একটি নির্মাণাধীন পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে, যার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে।

আঞ্চলিক দেশগুলোতেও যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়ছে। কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও জল পরিশোধন কেন্দ্রে হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং বাহরিন, জর্ডন ও কুয়েতসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। ইজরায়েলও ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিজেদের ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় তাদের অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫১৭ জন আহত হয়েছেন। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি এই আগ্রাসন পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার অবসানের কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ এখনো পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%