ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানের মাত্র ছয় মিটারের মধ্যে রুশ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন

কৃষ্ণসাগরের ওপর আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় একটি ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানের মাত্র ছয় মিটারের মধ্যে দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বেগে উড়ে গেছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান। ঘটনাটিকে ‘বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি।
গত মাসে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানের সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানের এমন দুটি বিপজ্জনক মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রথম ঘটনায় রাশিয়ার একটি এসইউ-২৭ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি নিরস্ত্র ‘রিভেট জয়েন্ট’ গোয়েন্দা বিমানের সামনে ছয়বার চক্কর দেয়। এক পর্যায়ে যুদ্ধবিমানটি ব্রিটিশ বিমানের নাকের এত কাছ দিয়ে উড়ে যায় যে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন ঘটনা ঘটলে দুই দেশের মধ্যে গুরুতর কূটনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারত বলে আশঙ্কা করা হয়।
দ্বিতীয় ঘটনায় রাশিয়ার একটি এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানের এত কাছাকাছি চলে আসে যে বিমানের জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায়। এমনকি বিমানের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
‘রিভেট জয়েন্ট’ হলো একটি বিশেষ ধরনের গোয়েন্দা বিমান। এতে প্রায় ৩০ জন সদস্যের একটি দল থাকে এবং এটি প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত ইলেকট্রনিক নজরদারি চালাতে সক্ষম। উত্তর আটলান্টিক জোটের টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিমানটি রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় পরিচালিত একটি নিরস্ত্র বিমানের প্রতি রুশ পাইলটদের এই আচরণ বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুর্ঘটনা এবং পরিস্থিতির আরও অবনতির গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২২ সালে কৃষ্ণসাগরের ওপর একটি ব্রিটিশ বিমানের কাছে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর এটিই ব্রিটিশ ‘রিভেট জয়েন্ট’ বিমানের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর সবচেয়ে বিপজ্জনক আচরণ।
এদিকে ইউরোপে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বুধবার লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি চালকবিহীন বিমান প্রবেশের পর রাজধানী ভিলনিয়াসের বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এ সময় কয়েকজন রাজনীতিককে নিরাপদ আশ্রয়েও নেওয়া হয়।
এর এক দিন আগে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, মস্কোর কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ইউক্রেন লাটভিয়া ও অন্যান্য বাল্টিক দেশ থেকে সামরিক চালকবিহীন বিমান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তবে লাটভিয়া এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে একে ‘সম্পূর্ণ কল্পকাহিনি’ বলে অভিহিত করেছে।
গত মাসে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধজাহাজ উত্তর সাগর ও ডোভার প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। তাদের সঙ্গে তেলবাহী জাহাজ এবং সন্দেহভাজন অস্ত্র পরিবহনের একটি জাহাজ ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ কারণে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীকে এক মাস ধরে তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাতে হয়।
এর আগে জন হিলি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্য তিনটি রুশ সাবমেরিনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে। সমুদ্রে যাত্রা শুরুর আগে ওই সাবমেরিনগুলো প্রায় এক মাস উত্তর আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছে অবস্থান করেছিল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাতে চান।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা উত্তর আটলান্টিক জোট, মিত্র দেশগুলো এবং রুশ আগ্রাসন থেকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে কোনোভাবেই দুর্বল করবে না।
তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান