উত্তর গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১, নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

গাজার উত্তরাঞ্চলে বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার পশ্চিম গোলচত্বরের কাছে একটি তিন চাকার যানবাহনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মাদ সাদা, যিনি একটি মিউনিসিপ্যাল রক্ষণাবেক্ষণ দলের সদস্য ছিলেন। তিনি সামরিক অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পানির কূপ মেরামত করে ফেরার পথে প্রাণ হারান।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও লক্ষ্যভেদী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অনেকটা স্থিমিত থাকলেও বুধবার পুনরায় আকাশপথে বোমাবর্ষণ শুরু করেছে দখলদার বাহিনী। নিহত মোহাম্মাদ সাদার মরদেহ এবং পাঁচ আহত ব্যক্তিকে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল হামাসের এক কমান্ডার, যিনি ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের বিমান হামলার তীব্রতা হ্রাস পেলেও গাজার বিভিন্ন স্থানে স্থলভাগের গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার খান ইউনিসে কোয়াডকপ্টার ড্রোন হামলায় এক বাবা ও তার তেরো বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের কাছেও তীব্র গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার কিশোরের বাবা জানান, খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ফেরার পথে হঠাৎ বিস্ফোরণের কবলে পড়ে তারা রক্তাক্ত হন।
যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলি হামলা নতুন করে এই অস্থিরতাকে উসকে দিয়েছে। সম্প্রতি গাজা যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রত্যাখ্যান করার কয়েক দিনের মাথায় এই সংঘাতের খবর এল। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় গাজা উপত্যকায় হামাসসহ সকল সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের শর্ত ছিল, যা হামাস গ্রহণ করলেও ইসরায়েল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তা নাকচ করে দেয়।
অক্টোবর মাসে মার্কিন সমর্থিত কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩,৩৮৮ জনে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৪,২৫৯ জন। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও গাজার পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
