অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া অব্যাহত, বন্দী ২৩ ফিলিস্তিনি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার এবং বেশ কিছু বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে বসতি স্থাপনকারীদের সাথে সংঘর্ষে নিহত ফারুক রমজানের পৈতৃক নিবাসসহ নবলুসের তাল গ্রামে আরও বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অধিকৃত এই ভূখণ্ডের পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উদ্বেগজনক ও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি রয়েছেন। জেনিন গভর্নরেট থেকে ১১ জন এবং বেথলেহেম এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে দখলদার বাহিনী। এছাড়া হেবরন গভর্নরেটের ইয়াত্তা এলাকার অদূরে ইব্রাহিম মিফ্লেহ আল-আতিমিনের বাড়ি ও একটি পানির কূপ ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে নয় সদস্যের একটি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আনজা গ্রামে ১২টি বাণিজ্যিক গুদাম এবং ইয়ারজাতে একটি কৃষি স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
এদিকে আল-মুগাইয়িরে কৃষিকাজে নিয়োজিত ফিলিস্তিনিদের ওপর সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালালে নারী ও শিশুসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বসতি স্থাপনকারীরা ওই এলাকায় ফসলি জমিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে তাণ্ডব চালায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত ১১৯টি ফিলিস্তিনি জনবসতি এই ধরনের উচ্ছেদ ও সহিংসতার মুখে পড়ে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরে প্রতি মাসে গড়ে ১২২টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপ-সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ জানান, চলতি বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১৮ শিশুসহ মোট ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও উচ্ছেদের কবলে পড়ে প্রায় ৩,৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আলাকবারভ আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল এ বছর পশ্চিম তীরে প্রায় ১২,৩৬০টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফিলিস্তিনি শাসনের ভিত্তি দুর্বল করছে এবং কার্যত ভূখণ্ড দখলের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গ্রাম ও কৃষি জমি ক্রমান্বয়ে অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে দখল করে নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের ভূমিতেই আগন্তুক হিসেবে গণ্য হচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
