আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও গুণগত মানের সংকটে ভারতীয় কৃষি পণ্যের রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

ভারতের কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতে গভীর সংকট ঘনীভূত হয়েছে। দেশটির আম, চাল এবং মশলার গুণগত মান নিয়ে জাপান, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক উন্নত দেশ একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় কৃষকরা। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের এই শক্তিশালী অবস্থান এখন বিশ্বব্যাপী কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার মানদণ্ডে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
জাপানি পরিদর্শকরা দেশটির লখনউয়ের বাষ্প তাপীয় প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ত্রুটি খুঁজে পাওয়ায় ভারতের আম রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে আলফনসো ও কেসারের মতো জনপ্রিয় ছয়টি প্রজাতির আমের রপ্তানি মৌসুমের শুরুতেই থমকে গেছে। দুই দশকের মধ্যে এটিই ভারত-জাপান আম বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু আম নয়, চীনের বাজারেও হোঁচট খেয়েছে ভারতের চাল রপ্তানি। জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজমের অস্তিত্ব পাওয়ার অজুহাতে বেইজিং তিনটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করেছে। যদিও রপ্তানিকারকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও ভারতের কৃষি রপ্তানির ২০ শতাংশ দখল করে থাকা চালের বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও হংকংয়ের বাজারেও ভারতীয় মশলার গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কিউমিন বা জিরার মতো পণ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়ার ঘটনায় ইউরোপীয় বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা মূলত উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়, কিন্তু বিশ্ববাজার এখন পণ্যের গুণগত মান ও উৎপাদনের উৎস পর্যন্ত স্বচ্ছতা দাবি করে।
ভারতের কৃষি খাতের এই দুর্বলতার মূল কারণ হিসেবে সরবরাহ চেইনের অসংগঠিত অবস্থাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে রপ্তানি পর্যন্ত পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার ডিজিটাল রেকর্ড বা ট্রেসেবিলিটির অভাব দীর্ঘদিনের। ক্ষুদ্র চাষিদের বিশাল সংখ্যা এবং মানসম্মত ল্যাবরেটরির অপর্যাপ্ততা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে ল্যাবরেটরিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো ও ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন শর্ত পূরণ করতে পারলে তবেই ভারত তার হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
