AdvertisementAdvertisement

আদিবাসী শিল্পীদের মেধাস্বত্ব ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন সরকারি উদ্যোগ

ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক আদিবাসী সুর ও সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক মানের আইনি সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত সরকারের আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক। ‘ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইট সোসাইটি’ বা আইপিআরএস-এর সক্রিয় সহযোগিতায় ‘লিভিং রুটস অরিজিনালস’ নামক এই বিশেষ উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক আদিবাসী শিল্পীদের মেধাস্বত্ব রক্ষা করা এবং তাদের সৃজনশীল কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের ৩ থেকে ৭ আগস্ট কলকাতায় প্রথম পর্যায়ের ‘গীতরচনা রেসিডেন্সি’ অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় ভারতের পাঁচটি রাজ্যের আটটি ভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ২৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কেরালা থেকে আগত জেনু কুরুবা ও পানিয়া, ঝাড়খণ্ডের হো, পশ্চিমবঙ্গের কোচ রাজবংশী, নাগাল্যান্ডের চাকেসাং এবং ছত্তিশগড়ের গোন্ড, মাড়িয়া ও মাহারা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সুর ও মূর্ছনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব রঞ্জনা চোপড়া প্রামাণিক জানান, দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আদিবাসী শিল্পীদের কাজের স্বীকৃতি ও মালিকানা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। শিল্পীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট তথ্যভাণ্ডার তৈরি, সঙ্গীতের প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের অনুমোদন গ্রহণ এবং ন্যায্য রয়্যালটি ও লভ্যাংশ বণ্টন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে আদিবাসী শিল্পীদের সৃজনশীল কর্মকে আধুনিক সঙ্গীত প্রযোজনা, রেকর্ডিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্মিলিত আদিবাসী মেধাস্বত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে শিল্পীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং তাদের হারানো সুরের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ভারত সরকারের এই বৃহত্তর প্রয়াসের মূল চালিকাশক্তি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%