AdvertisementAdvertisement

অসহায়ত্বের বৃত্তে জুলাই শহীদ আব্দুল গনির পরিবার

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর গ্রামের নতুনবাজার এলাকায় বসবাসকারী জুলাই বিপ্লবের শহীদ আব্দুল গনি শেখের পরিবার এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার স্ত্রী লাকি আক্তার দুই সন্তান আল আমিন ও জান্নাত আক্তারকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় কাজ করার সময় ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিবর্ষণে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ করেন গনি শেখ। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শহীদ গনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে প্রাপ্ত অনুদানের ৩০ লাখ টাকার মধ্যে লাকি আক্তার পেয়েছেন ২০ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা তার শ্বশুর পেয়েছেন। সরকারি বিধান অনুযায়ী মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতার মধ্যে ১৩ হাজার টাকা স্ত্রী ও সাত হাজার টাকা তার শ্বশুরকে দেওয়া হয়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই টাকায় সন্তানের লেখাপড়া ও সংসার চালানো লাকি আক্তারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া পৈতৃক ভিটার জমির ভাগবন্টন নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধ তার সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিহত গনির আট বছর বয়সী শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার জানায়, তার বাবার মৃত্যুর খবরটি এখনো তাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে রেখেছে। বাবা হত্যার বিচার চেয়ে এবং ভবিষ্যতে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছে সে। মামলার বিষয়ে লাকি আক্তার জানান, ঘটনার পর তার শ্বশুর আব্দুল মজিদ শেখ মামলা করলেও মামলার বর্তমান অবস্থা বা আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। গুলশান থানায় যোগাযোগ করেও মামলার নথি বা কোনো তথ্য না পাওয়ায় তিনি বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

জমির বিরোধের বিষয়ে আব্দুল মজিদ শেখ জানান, তিনি জমি দিতে রাজি থাকলেও তার অন্য দুই ছেলের বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে অভাব-অনটন, আইনি অনিশ্চয়তা এবং পারিবারিক জটিলতায় বিপর্যস্ত শহীদ গনির পরিবার। এহেন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার প্রশাসনের কাছে যথাযথ সহায়তা প্রদান এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%