চট্টগ্রামে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা ও জ্বালানি সংকট নিয়ে ব্যবসায়ীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ এবং সমুদ্রসম্পদকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া মহাপরিকল্পনায় নতুন আশার আলো দেখছেন বন্দরনগরীর উদ্যোক্তারা। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামকে একটি অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এই বিশাল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে জ্বালানি সংকট নিরসনসহ বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক জানান, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী চিন্তা ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং সমুদ্রের নীল অর্থনীতিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি রপ্তানি আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ীরা এখন সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে শিল্পোদ্যোক্তারা উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে চট্টগ্রামের অনেক কারখানা ইতোমধ্যে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিশেষ ছাড়ের আবেদন জানিয়েছে চেম্বার। উদ্যোক্তারা মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করাকেও শিল্পায়নের জন্য অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বিজিএমইএ পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী উল্লেখ করেন, কাস্টমস অ্যাসেসমেন্টে অযাচিত দীর্ঘসূত্রতা এবং ডেমারেজ চার্জের কারণে আমদানিকারকদের মূলধন আটকে যাচ্ছে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং দাপ্তরিক ফাইল নড়াচড়ায় সময়ক্ষেপণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এনবিআর, বিডা ও বেজার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও গতিশীল ও সমন্বয়মুখী ভূমিকা পালন করতে হবে।
উদ্যোক্তাদের মতে, মিরসরাই ও মাতারবাড়ীতে শিল্পায়ন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ বাড়বে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্য খালাসের খরচ কমানো এবং উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় উদ্যোক্তারা আশা করছেন, বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা ও অংশীদারত্ব বজায় রেখে সরকার একটি টেকসই অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা গেলে চট্টগ্রাম অচিরেই দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হবে।
