মতলব উত্তরে লোডশেডিংয়ের দাপটে দিশেহারা গ্রাহক, ভূতুড়ে বিল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় তীব্র দাবদাহের মধ্যে অসহনীয় লোডশেডিং এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আঠারো ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, তার ওপর গত দুই মাস ধরে ভূতুড়ে বিলের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
ইসলামাবাদ গ্রামের বাসিন্দা দুলাল দর্জি জানান, আগে প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল দুই হাজার টাকার নিচে আসলেও জুলাই মাসে তা পাঁচ হাজার টাকায় ঠেকেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সুজাতপুর গ্রামের নয়ন দাস ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অংকন দাস। অংকন দাসের দাবি, নিয়মিত ব্যবহারের বিপরীতে তার বিল অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিটার রিডিং না দেখেই মনগড়া ও অতিরিক্ত বিল তৈরি করে গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানাতে গিয়ে উল্টো হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির অজুহাতে গ্রাহকদের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এজিএম মো. নাইম জানান, চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে। বর্তমানে মতলব উত্তর উপজেলায় ২৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তার ওপর ভিত্তি করেই বিল নির্ধারণ করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের এমন দায়সারা বক্তব্যে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এখন দিশেহারা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের ভূত নামানো এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
