অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার গ্লাভস কিনছে যুক্তরাষ্ট্র, মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ দস্তানা বা গ্লাভস ক্রয়ের পরিকল্পনা করছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই বিশেষ সরঞ্জাম কেনায় ১০ মিলিয়ন থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। মূলত অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের আওতাধীন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।
সি.টি.-জি৫ জি.এল.ও.ভি.ই নামের এই দস্তানাগুলো মূলত ‘জেনারেট লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার’ হিসেবে পরিচিত। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস দাবি করেছে যে, এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক স্পন্দনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। দস্তানাগুলো সর্বোচ্চ ৩৮০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ নিঃসরণ করতে সক্ষম, যা আক্রান্ত ব্যক্তির পেশির সমন্বিত নড়াচড়া ব্যাহত করতে পারে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট কিকা মানতোস এই পদক্ষেপকে অমানবিক ও নিষ্ঠুর বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইসের মতো একটি বিতর্কিত সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে অভিবাসীদের ওপর নির্যাতনের নতুন পথ তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে থেকেই আইসের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণ এবং বলপ্রয়োগের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
যদিও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, তাদের এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কোনো দীর্ঘস্থায়ী আঘাত তৈরি করে না। তবুও এই যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স্ক, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রশিক্ষণের অভাব এবং দায়বদ্ধতার অভাবে এই দস্তানাগুলো আইস কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি সহিংসতা ও নিপীড়নের হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আইস কর্মকর্তাদের সাথে সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন এবং সংস্থাটির হেফাজতে আরও বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে এই বৈদ্যুতিক দস্তানা ক্রয়ের বিষয়টি অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অধিকার কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
