হাবড়ায় পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত দুই, নেপাল হয়ে বাংলাদেশ প্রবেশের ছক খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। পাকিস্তানি গুপ্তচর সন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া ও কলকাতা থেকে ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ এবং তার সহযোগী ইজাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে আন্তঃদেশীয় গোয়েন্দা চক্রের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে এসটিএফ সূত্রে জানানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত রানা রউফ নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে বিহারের রক্সৌল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতারের সময় সে নিজেকে ওয়াহাব আলম হিসেবে পরিচয় দিয়ে জাল আধার ও ভোটার কার্ড দাখিল করে। তবে পুলিশি তল্লাশিতে কার্ডের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলো দীর্ঘ সময় আগেই বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীকালে তার কাছ থেকে পাকিস্তানি পাসপোর্ট উদ্ধার হলে আসল পরিচয় এবং ঠিকানার রহস্য উন্মোচিত হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, রানা রউফ বাংলাদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল। সে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তল্লাশিকালে তার নোটবুক থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর উদ্ধার করা হয়েছে। জেরায় সে আইএসআই-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন এজেন্টের নাম প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ‘জেডি’ নামে এক ব্যক্তির খোঁজ মিলেছে।
অন্যদিকে, রানার তথ্যের ভিত্তিতেই তপসিয়া থেকে ইজাজকে পাকড়াও করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত ভদ্র ও সাদামাটা জীবনযাপনকারী হিসেবে পরিচিত ইজাজ দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিল। তার মেয়ে জানিয়েছেন, বাবা এলাকায় জুতো তৈরির কাজ করতেন। তবে ইজাজের নিয়মিত কাঠমান্ডু যাতায়াতের নথিপত্র পাওয়ার পর পরিবারটির দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। আপাতত এই দুই ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
