AdvertisementAdvertisement

কলকাতায় রাতের ভোগান্তি কমাতে বাড়ছে সরকারি বাস পরিষেবা

কলকাতার নৈশকালীন পরিবহন সংকটের অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১ আগস্ট, শনিবার থেকে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে সরকারি বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত রাতের ট্রেন, মেট্রো ও বিমানের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং নাইট শিফটে কর্মরত কর্মীদের যাতায়াত সহজতর করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

পরিবহন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে গণপরিবহনের অভাবে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অ্যাপ ক্যাব বা বাইক সার্ভিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যেখানে তাদের স্বাভাবিকের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। বহু রোগী রাতের ট্রেনে হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশনে এসে নামেন, যাতে ভোরবেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে আউটডোরের টিকিটের লম্বা লাইনে আগেভাগে দাঁড়াতে পারেন। এই রোগীদের পাশাপাশি বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই ট্রেন, মেট্রো ও বিমানের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এই বাস পরিষেবার নকশা করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনায় নীলগঞ্জ ডিপো-হাওড়া স্টেশন, হাওড়া স্টেশন-পাটুলি, হাওড়া স্টেশন-গড়িয়া, হাওড়া স্টেশন-বালিগঞ্জ, ডানলপ-বালিগঞ্জ এবং উল্টোডাঙা-ইকো স্পেসসহ একাধিক রুটে রাতের বাসের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও বিমানবন্দর, ব্যারাকপুর, মৌড়িগ্রাম ও কামালগাজির মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে ধাপে ধাপে বাস পরিষেবা সম্প্রসারিত হবে। পরিবহন দফতর জানিয়েছে, যাত্রী চাহিদা ও জনগুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন রুটে বাসের শেষ ট্রিপের সময়সীমা বাড়িয়ে রাত ১০টা এবং ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাসপাতালকেন্দ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন। মেডিকেল কলেজ, এসএসকেএম, আরজি কর, এনআরএস এবং চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি রুটগুলোতে অধিকহারে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিষেবাটি যেন স্থায়ীভাবে চালু রাখা যায়, সেজন্য বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলোর প্রতিও সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শুধুমাত্র উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন রুটগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা কলকাতার রাতের কর্মব্যস্ততাকে আরও গতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%