ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কুয়াকাটায় স্কুল কর্মচারী বরখাস্ত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ও প্রাইভেট শিক্ষক মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার ৩১ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক জরুরি সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন ও প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আগামী ১ আগস্ট থেকে এই বরখাস্ত কার্যকর হবে।
অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জলিলুর রহমান ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। গত ২৬ জুলাই তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের তথ্য পাওয়া গেলেও তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শেখ মো. মাঈনুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বরখাস্তের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত জলিলুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
