পলাতক টুলু মণ্ডলের বিলাসবহুল প্রাসাদ সিল করল পুলিশ বাজেয়াপ্ত নগদ অর্থ ও সোনা

পাথর ও বালির ব্যবসার তথাকথিত ‘বেতাজ বাদশা’ টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের হদিস না মেলায় দানা বেঁধেছে রহস্য। তাঁর ভগ্নিপতি মিনারের গ্রেপ্তারের পর থেকেই টুলুর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে তিনি হয়তো বিদেশেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার টানা ১৫ ঘণ্টা তল্লাশি শেষে সিউড়ির সুভাষপল্লিতে অবস্থিত টুলুর বিলাসবহুল বাড়িটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ।
অভিযান পরিচালনার সময় ওই বাড়ি থেকে পরিচারিকা, নিরাপত্তারক্ষী এমনকি টুলুর পোষা সারমেয় ‘লিলি’কেও বের করে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল ডিএসপি সুরজিৎ মণ্ডল, ডিএসপি সৌরভ ভট্টাচার্য ও সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই অভিযান চালায়। সূত্রের খবর, তল্লাশিতে ওই বাড়ি থেকে নগদ ৮ লক্ষ টাকা এবং ১৫০ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়েছে। পাথর ব্যবসার আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জনের উৎস খুঁজতেই পুলিশ এই তৎপরতা চালিয়েছে।
তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠার মতো রাজকীয় সব সুযোগ-সুবিধায় ঠাসা টুলুর এই অট্টালিকা। চারতলা বিশিষ্ট ওই বাড়িতে আধুনিক লিফট, জিম, সুইমিং পুল এবং ব্যক্তিগত সিনেমা দেখার থিয়েটারও রয়েছে। মার্বেল পাথরের মেঝে এবং বাহারি আলোর কারুকার্যখচিত বাড়িটি যে কোনো বিলাসবহুল রিসর্টকেও হার মানায়। এছাড়া বাড়ির বাগানে বিদেশি গাছের সমাহার এবং সাজসজ্জা দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছেন কর্মকর্তারা।
সিউড়ির সুভাষপল্লির এই রাজপ্রাসাদ ছাড়াও মহম্মদবাজারে টুলুর ট্রাক ও লরি পার্কিংয়ের বিশাল আস্তানা রয়েছে। তার সিউড়ির সোঁৎশালে পৈতৃক ভিটেও রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্যারেজে রাখা একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়ির চাকচিক্য দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, ব্যবসার আড়ালে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন তিনি। আপাতত বাড়িটি সিল করে দিয়ে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
