AdvertisementAdvertisement

কলকাতায় ঊর্ধ্বমুখী সোনা ও রুপোর দাম, দিশেহারা ক্রেতা সাধারণ

কলকাতায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী মূল্যবান ধাতুর বাজার। ৩০ জুলাই ২০২৬-এর বাজারদর অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট—তিন ধরনের সোনার দামেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে চড়া হয়েছে রুপোর দরও। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং দেশীয় বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদাকেই এই দর বৃদ্ধির মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। সামনেই বিয়ের মরশুম থাকায় আগামী দিনে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় গয়না ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ৮২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,৪৩৩ টাকায়। ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ৭৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে তা ১৩,২৩০ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দর ৬২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০,৮২৫ টাকায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গয়না ক্রয়ের ক্ষেত্রে কেবল সোনার মূল দাম নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয় মেকিং চার্জ এবং পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার গয়না কেনেন এবং সেক্ষেত্রে ১২ শতাংশ মেকিং চার্জ ধার্য করা হয়, তবে সোনার মূল দাম ১,৩২,৩০০ টাকার সঙ্গে ১৫,৮৭৬ টাকা মেকিং চার্জ ও ৪,৪৪৫ টাকা জিএসটি যুক্ত হয়ে মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১,৫২,৬২১ টাকায়। ফলে ক্রেতাদের বাজেট নির্ধারণের সময় এই আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিষয়টিতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

রুপোর বাজারেও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। কলকাতায় প্রতি গ্রাম রুপোর দাম ১০ পয়সা বেড়ে ২৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম ১০০ টাকা বেড়ে ২,৩৫,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ১০ গ্রাম ওজনের রুপোর অলঙ্কার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ মেকিং চার্জ ও ৩ শতাংশ জিএসটিসহ গ্রাহককে মোট প্রায় ২,৭১১ টাকা খরচ করতে হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর মুদ্রানীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি মূল্যবান ধাতুর দামকে প্রভাবিত করছে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা বা রুপো কিনতে আগ্রহীদের প্রতিদিনের বাজারদর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মেকিং চার্জের তারতম্য থাকায়, কেনার আগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মূল্যের তুলনা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%