AdvertisementAdvertisement

টেকসই ব্যাংকিং ও সুশাসনে ৩৩ বছরের মাইলফলক অতিক্রম করল এনসিসি ব্যাংক

দেশের ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা ও নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাফল্যের সাথে ৩৩ বছর অতিক্রম করেছে এনসিসি ব্যাংক। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থেকে আজকের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের এই দীর্ঘ পথচলায় ব্যাংকটি কেবল নিজেদের ব্যবসায়িক পরিধিই বাড়ায়নি, বরং দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ ১০টি টেকসই ব্যাংকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও দেশের ব্যাংকিং খাতের আস্থার সংকট সত্ত্বেও সুশাসন ও স্বচ্ছতাকে পুঁজি করে এনসিসি ব্যাংক বাজারে নিজেদের স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবসায়িক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন জানান, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণে তারা শুরু থেকেই শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। গত সাত থেকে আট বছরে ব্যাংকটি তাদের কৌশলগত রূপান্তরের মাধ্যমে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানি খাতের অর্থায়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট থাকা সত্ত্বেও কঠোর নিয়মকানুন পরিপালন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবার মান উন্নয়নের ফলে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় কোনো চিড় ধরেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণের প্রবৃদ্ধি মন্থর থাকলেও, এনসিসি ব্যাংক ‘ঝুঁকিসচেতন ও ভারসাম্যপূর্ণ’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এম শামসুল আরেফিন জানান, ব্যাংকটি নির্বাচিত উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখার পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়িয়ে তারল্য ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে। আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে স্বল্প ব্যয়বহুল তহবিল তথা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিংয়ের যুগে এনসিসি ব্যাংক তাদের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমানে এনসিসি আইকন ও এনসিসি অলওয়েজ অ্যাপের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যার ফলে শাখানির্ভরতা অনেকাংশেই কমেছে। ভবিষ্যতের পথচলা প্রসঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক পার্সোনালাইজড ব্যাংকিং, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ডিজিটাল ও ফিনটেক ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আনার পাশাপাশি একটি স্মার্ট ও টেকসই ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনসিসি ব্যাংকের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত- সাক্ষাৎকার
0%
0%
0%
0%