সিন্ধু সভ্যতার উত্তরাধিকার নিয়ে পাকিস্তানের দাবি খারিজ করল ভারত

সিন্ধু সভ্যতার উত্তরাধিকার নিয়ে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক দাবিকে জোরালো ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, যে রাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে, তারা কোনোভাবেই বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের দাবিদার হতে পারে না। নয়াদিল্লির মতে, রাজনৈতিক প্রচার কিংবা কৃত্রিম ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের অমোঘ সত্যকে বদলে ফেলা সম্ভব নয়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই দাবিকে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যে দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি চরম বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের ইতিহাস রয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে বহুত্ববাদী সিন্ধু সভ্যতার উত্তরাধিকার দাবি করা চরম বৈপরীত্যের শামিল। এই ধরনের দাবি কেবল বিশ্বাসযোগ্যতাই হারায় না, বরং তা ইতিহাসের বিকৃত রূপায়ণের অপচেষ্টা হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।
নয়াদিল্লির ভাষ্যমতে, সিন্ধু সভ্যতা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন নগরকেন্দ্রিক ও উন্নত জনপদ, যার মূল ভিত্তি ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ভাষা, শিল্পকলা এবং যুগ যুগ ধরে টিকে থাকা সামাজিক রীতির মাধ্যমেই একটি সভ্যতার প্রকৃত পরিচয় বহন করে। পাকিস্তান সাম্প্রতিককালে সিন্ধু সভ্যতা ছাড়াও সংস্কৃত ভাষা, ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক নিয়ে যে প্রচার চালাচ্ছে, তা প্রকৃত ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই কঠোর অবস্থান কেবল একটি ঐতিহাসিক বিতর্কের জবাব নয়, বরং নিজের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার স্বরূপ রক্ষার একটি স্পষ্ট বার্তা। ভারত মনে করে, হাজার বছরের নিরবচ্ছিন্ন দর্শন, সাহিত্য এবং শিল্পকলার যে ধারা তারা লালন করে আসছে, তা বাইরের কোনো স্বীকৃতি বা প্রচারের মুখাপেক্ষী নয়। ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাই ভারতের সভ্যতার প্রধান চালিকাশক্তি।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কোনো ভৌগোলিক সীমান্ত বা রাজনৈতিক কাঠামো সভ্যতার উত্তরাধিকার নির্ণয়ের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই সভ্যতার মূল্যায়ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। ফলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো দাবি বা প্রচার ইতিহাসকে নতুন করে লেখার শক্তি রাখে না।
ভারত পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, তাদের সভ্যতার ভিত্তি অত্যন্ত সুগভীর এবং তা বহু শতাব্দীর জীবন্ত ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই এই উত্তরাধিকারকে ঘিরে পাকিস্তানের যেকোনো অসার প্রচেষ্টা বাস্তবতাকে বদলে দিতে ব্যর্থ হবে। নয়াদিল্লির নীতি হলো, ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে অর্জন বা খণ্ডিত করা সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস