না ফেরার দেশে কিংবদন্তি দেব আনন্দের পুত্র সুনীল আনন্দ

বলিউডের সোনালি যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা দেব আনন্দের একমাত্র পুত্র সুনীল আনন্দ আর নেই। দীর্ঘ ৭০ বছর বয়সে লন্ডনের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিক প্রয়াণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল এক বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাসের। গত রোববার লন্ডনের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুনীল আনন্দের ভাগনি জিনা নারাং এক শোকবার্তায় জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তাঁরা এই দুঃসংবাদটি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে, ২০১১ সালে বলিউডের অমর তারকা দেব আনন্দও লন্ডনের এই একই হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।
১৯৫৬ সালের ৩০ জুন সুইজারল্যান্ডের জুরিখে জন্ম নেওয়া সুনীল আনন্দ ছিলেন দেব আনন্দ ও অভিনেত্রী কল্পনা কার্তিকের একমাত্র সন্তান। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ব্যবসায় প্রশাসনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বাবার শিল্পময় পথ। বাবার সহকর্মী হিসেবে হাতেখড়ি হলেও ১৯৮৪ সালে ‘আনন্দ অউর আনন্দ’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। পরবর্তীতে ‘কার থিফ’ ও ‘ম্যায় তেরে লিয়ে’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় এবং ২০০১ সালে ‘মাস্টার’ সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
অভিনয় ও নির্মাণের উজ্জ্বল শিখরে পৌঁছাতে না পারলেও, বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক প্রযোজনা সংস্থা ‘নবকেতন ফিল্মস’-এর হাল ধরেন সুনীল। বাবার অমূল্য চলচ্চিত্র ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তাঁর মৃত্যুতে কেবল আনন্দ পরিবার নয়, শোকস্তব্ধ গোটা বলিউড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক তারকা সুনীল আনন্দের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন, যা বিনোদন জগতে এক বিষাদময় অধ্যায়ের সূচনা করল।
