AdvertisementAdvertisement

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের হামলা পালটা ইরানি হামলায় কুয়েতে নিহত ১

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা নতুন রূপ নিয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একাধিক সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ওয়াশিংটন এই সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেয়। এর পরপরই ইরান পাল্টা আঘাতের হুমকি দিলে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি সাইট এবং বিভিন্ন নৌ-কৌশলগত স্থাপনা। যদিও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো এলাকার নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং আইআরআইবি-র তথ্যমতে, ইরানের কেশম দ্বীপ, বুশেহর, ফার্স প্রদেশ এবং বন্দর আব্বাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কেশম দ্বীপে আবাসিক এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন। এছাড়া বুশেহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আহভাজ শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এই সামরিক অভিযানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীদের অবশ্যই সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকালে কুয়েত এবং জর্ডানের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা কোম্পানির ভবনে হামলায় অন্তত এক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংঘাতের পরিধি লোহিত সাগর ও মিশর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছে কায়রো। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং কাস্পিয়ান সাগরে সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক বুরকু ওজচেলিক সতর্ক করে বলেছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। এখন বিশ্বনেতাদের নজর মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার দিকে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও আকাশপথে নিয়মিত সামরিক বিনিময় নতুন স্বাভাবিকতায় পরিণত হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%