AdvertisementAdvertisement

পাসপোর্ট নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় সরকার

ভারতীয় পাসপোর্ট নাগরিকত্বের চূড়ান্ত বা অখণ্ড প্রমাণপত্র নয়—কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের এই সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, পাসপোর্ট মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণের একটি সুবিধাজনক নথি বা ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ মাত্র। সরকারের এই অবস্থানের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা, যার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক দাবি করেছেন, পাসপোর্টের এই সংজ্ঞায়ন নতুন কোনো নীতিগত পরিবর্তন নয়। তাঁর ভাষ্যমতে, বিগত কয়েক দশক ধরেই ভারত সরকার একই আইন ও আইনি ব্যাখ্যা মেনে চলছে এবং গত ১২ বছরেও এ সংক্রান্ত কোনো নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়নি। চতুর্দশ ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’-এর মঞ্চে বিদেশ মন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, পাসপোর্ট ইস্যু করার অর্থ এই নয় যে ধারক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারতের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সরকারের এই অনড় অবস্থানের স্বপক্ষে তারা ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের ২০ নম্বর ধারাকে হাতিয়ার করেছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করলে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো অ-ভারতীয় নাগরিককেও ভ্রমণ নথি প্রদান করতে পারে। এছাড়া ২০১৩ সালে বম্বে হাইকোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ করে সরকার জানিয়েছে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী পাসপোর্ট নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ নয়।

এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই জনমনে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ও স্পষ্ট হয়েছিল যে, আধার কার্ড বা ভোটার আইডি নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি হিসেবে গণ্য করা হয় না। ২০২০ সালে সংসদেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, কোনো নির্দিষ্ট নথি নয়, বরং ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী জন্ম, বংশপরম্পরা, রেজিস্ট্রেশন বা ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমেই মূলত নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পাসপোর্টকে কেবল ভ্রমণের নথি হিসেবে চিহ্নিত করার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, তবে নাগরিকত্বের আসল প্রমাণপত্র কী? অতীতে ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা জন্ম শংসাপত্রকে ঘিরেও এমন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সরকারি মহলের দাবি, পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া থাকলেও, তা নাগরিকত্বের আইনি মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%