আইসিসি হল অব ফেমে সৌরভ গাঙ্গুলী কেভিন পিটারসেন ও আঞ্জুম চোপড়া

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সম্মান আইসিসি হল অফ ফেমে যুক্ত হলেন সৌরভ গাঙ্গুলী, কেভিন পিটারসেন এবং আঞ্জুম চোপড়া। গত ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন কিংবদন্তির নাম ঘোষণার মাধ্যমে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় যুক্ত হলো নতুন পালক। নিজের ৫৪তম জন্মদিনে সৌরভ গাঙ্গুলী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সুখবরটি প্রথম জানিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আইসিসির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে আইসিসি হল অফ ফেমে সদস্য সংখ্যা এখন ১২৫ জনে উন্নীত হলো।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১১৩ টেস্ট এবং ৩১১ ওয়ানডে খেলে ১৮ হাজারেরও বেশি রান সংগ্রহ করেছেন। বল হাতে মাঝারি গতির পেস বোলিংয়ে নিয়েছেন ১৩২ উইকেট। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় এবং ২০০৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের কারিগর ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ভারতের টেস্ট ইতিহাসে ২১টি জয় নিয়ে একসময় সর্বোচ্চ সফল অধিনায়কের মুকুটটি ছিল তাঁরই দখলে। আইসিসি হল অফ ফেমে নিজের নাম লেখাতে পেরে গাঙ্গুলী অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ক্রিকেটের অন্যতম সেরাদের কাতারে নিজের নাম দেখতে পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত।
ইংল্যান্ডের বিধ্বংসী ব্যাটার কেভিন পিটারসেন বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন ২০০৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে। ১০৪ টেস্ট, ১৩৬ ওয়ানডে এবং ৩৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৪ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক স্পর্শ করা পিটারসেন ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন। দলের প্রয়োজনে যেমন বিধ্বংসী হতে পারতেন, তেমনি দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে ২০০৮ সালে কিছু সময়ের জন্য টেস্ট ও ওয়ানডে দলের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি।
ভারতের নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার অন্যতম কারিগর আঞ্জুম চোপড়া প্রথম ভারতীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ ওয়ানডে খেলার এবং এই ফরম্যাটে ১ হাজার রান করার বিরল রেকর্ড গড়েছিলেন। মোট ১২৭ ওয়ানডেতে ২ হাজার ৪৫৮ রান করা এই ব্যাটার ১২ টেস্ট এবং ১৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারত প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় করে। ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। হল অফ ফেমে নিজের অন্তর্ভুক্তিতে আঞ্জুম বলেন, এই অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, বরং যারা তাঁর ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করেছেন, এই সম্মান তাদের সবার জন্য।