AdvertisementAdvertisement

ইউক্রেনে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিখোঁজ ভারতীয় নাবিক, উদ্ধারে মরিয়া পরিবার

ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী মার্চেন্ট নেভি নাবিক রামচন্দ্র দুবে। হামলার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও তরুণ এই নাবিকের কোনো সন্ধান মেলেনি, যা তাঁর পরিবারকে চরম উৎকণ্ঠার মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিখোঁজ নাবিককে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পরিবারটি ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

প্রয়াগরাজের ঝুঁসি এলাকার নিবি কালা গ্রামের বাসিন্দা রামচন্দ্র অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী রমেশচন্দ্র দুবের ছোট ছেলে। মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিদেশযাত্রা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশ পাড়ি দেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২৪ জুলাই রাতে শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল রামচন্দ্রের, সে সময় তিনি ইউক্রেন থেকে জাহাজটির যাত্রা শুরুর কথা জানিয়েছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২৫ জুলাই ওডেসা বন্দরে পৌঁছানোর প্রাক্কালে জাহাজটি ভয়াবহ ড্রোন হামলার শিকার হয়। শিপিং সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘এমভি এজিএন র্যাগনার’ নামের ওই বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা আটজন নাবিকের মধ্যে চারজনই ছিলেন ভারতীয়। হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে ভারতীয় নাবিকেরা সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। ইউক্রেনীয় উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিক তৎপরতা চালিয়ে দুই ভারতীয় নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রামচন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলির আরও এক নাবিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না পেয়ে গত ২৭ জুলাই নিখোঁজ নাবিকের পরিবারের সদস্যরা নয়াদিল্লিতে গিয়ে শিপিং সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো ইতিবাচক সংবাদ মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা ভারত সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন যেন ইউক্রেন প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ নাবিকদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং নিখোঁজ দুই নাবিকের সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রামচন্দ্রের পরিবারের সদস্যরা এখনো প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক অনিশ্চিত আশঙ্কায়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%