ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড ও মহান এয়ারকে সহায়তাকারীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং তাদের সহযোগী বিমান সংস্থা মহান এয়ারকে সহায়তার অভিযোগে ভারত, চীন, রাশিয়া ও ইরানে অবস্থিত মোট ছয়টি সংস্থা ও ব্যক্তির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইআরজিসির সামরিক তৎপরতা ও সন্ত্রাসবাদে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করতেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইআরজিসি এবং মহান এয়ারকে সহায়তা প্রদান করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, মহান এয়ার দীর্ঘদিন ধরেই আইআরজিসির পছন্দের বাহক হিসেবে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ রসদ পরিবহণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘দাদনেগার স্টার্টআপ স্টুডিও’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, এটি মূলত আইআরজিসির একটি ছদ্মবেশী কোম্পানি, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা এবং কর্মীদের অবস্থান শনাক্ত করে ইরানের সামরিক বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করত। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহান এয়ার কেবল পরিবহন সেবাই দিচ্ছে না, বরং তারা আইআরজিসির কুদস ফোর্সকে ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধা দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও সহায়তা করছে। এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিবহণে সংস্থাটির সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের আইআরজিসির বৈশ্বিক সামরিক নেটওয়ার্কের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত কোনো পক্ষকে বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়া মানে একটি সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই ধরনের সহযোগীদের চিহ্নিত করে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বার্তা দিয়ে টমি পিগট জানান, মহান এয়ার বা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ইরানি বিমান সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখলে তার পরিণাম ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এমন সব সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর, যারা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন স্বার্থ, মিত্র দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। আইআরজিসিকে কোণঠাসা করতে ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
