নবম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা চালুর সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ ও নতুন চাপ নিয়ে শঙ্কা

সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসইর নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলকভাবে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বি ভি নাগারত্নের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর এই নতুন নিয়মের ফলে অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, তৃতীয় ভাষা শেখানোর প্রক্রিয়া নবম শ্রেণি থেকে শুরু না করে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু করা যুক্তিসঙ্গত।
তামিলনাড়ুর প্রতিটি জেলায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের করা আপিল মামলার শুনানিকালে এই মন্তব্য উঠে আসে। ভারতের তামিলনাড়ু সরকার দীর্ঘ সময় ধরেই কেন্দ্রীয় ত্রি-ভাষা নীতির বিরোধিতা করে আসছে, কারণ তাদের মতে এটি রাজ্যে নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে। তবে শুনানিতে বিচারপতি নাগারত্ন উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় নীতিতে কোথাও হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি; বরং ইংরেজি ও রাজ্যের নিজস্ব ভাষার পাশাপাশি যেকোনো একটি তৃতীয় ভাষা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা শিক্ষার্থীদের রয়েছে।
মামলার শুনানিতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে আইনজীবী জি. প্রিয়দর্শিনী জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, কোনো ভাষাই রাজ্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাগারত্ন প্রশ্ন রাখেন, হিন্দির পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রে আপত্তির জায়গা কোথায়। তামিলনাড়ুর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নবম শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করায় শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ালেখার চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। বিচারপতি নাগারত্ন নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্তই তৃতীয় ভাষা শিক্ষার পাট চুকে যেত, ফলে বোর্ড পরীক্ষার সময় বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হতো না।
বিচারপতি নাগারত্ন স্পষ্টভাবে ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন যে, সিবিএসই, আইসিএসই কিংবা রাজ্য বোর্ডের কোনোটিতেই নবম শ্রেণি থেকে নতুন কোনো ভাষা চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। কারণ অষ্টম শ্রেণির শেষ থেকেই শিক্ষার্থীরা মূলত বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তবে বর্তমান মামলার মূল বিচার্য বিষয় জওহর নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত। ভারত সরকার ও তামিলনাড়ু সরকারের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই কেবল মামলার মূল বিষয়বস্তুর ওপর আদালত বিস্তারিত শুনানির সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে সিবিএসইর ত্রি-ভাষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পৃথক একটি জনস্বার্থ মামলাও দাখিল করা হয়েছে, যদিও আদালত আপাতত এই নীতির ওপর কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী সপ্তাহ ধার্য করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
