ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য অর্জনে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্লকটির অনেক সদস্য রাষ্ট্র বেন-গভিরের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব তুললেও, প্রয়োজনীয় সর্বসম্মত সমর্থনের অভাবে তা গৃহীত হয়নি।
সম্প্রতি গাজামুখী ‘গ্লোবাল সমুদ্র ফ্লোটিলা’র ত্রাণকর্মীদের আটক ও তাদের সাথে অসদাচরণের ঘটনায় বেন-গভির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই নিন্দার জের ধরে ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। ইতালীয় নাগরিকদের অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে এরই মধ্যে ইতালি তদন্ত শুরু করেছে এবং ফরাসি কৌঁসুলিরা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। তবে ইইউ’র কূটনৈতিক স্তরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মতির যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও কাজা কালাস স্পষ্টভাবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত মাসে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতায় জড়িত বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে এ অঞ্চলে ইসরায়েলের ওপর ইউরোপীয় চাপের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসে ইতালি ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার মধ্য দিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান জানান দেয়।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইসরায়েলের অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কাজা কালাস জানান, অনেক সদস্য রাষ্ট্র পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে বাণিজ্য সংকোচনের দাবি জানিয়েছে। তিনি কমিশনের কাছে এমন একটি প্রস্তাবনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অবৈধ বসতির পণ্য আমদানি রোধসহ প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থার তালিকা পরবর্তী পররাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থাপন করা যায়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা