পর্দার আড়ালে হাফিজ সইদের সক্রিয়তায় লস্কর-ই-তৈবার নতুন ছক ও সাংগঠনিক ঢেলে সাজানো

অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জঙ্গি তৎপরতার মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-এ-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদ্দিনের মতো গোষ্ঠীগুলো তাদের মূল ঘাঁটিগুলো খাইবার পাখতুনখোয়ায় আফগান সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চলে সরিয়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে মুম্বাই হামলার মূল হোতা হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন লস্কর-ই-তৈবার অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের পাট্টোকি এলাকাটি বর্তমানে জঙ্গি সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
লাহোর থেকে ৭৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাট্টোকি এলাকাটি মূলত বিশাল পুষ্পমেলার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তবে সেই শান্ত জনপদেই এখন লস্কর-ই-তৈবার ‘মরকজ ইয়ারমুক’ নামক নতুন প্রশিক্ষণ শিবিরের উত্থান ঘটেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, হাফিজ সইদের সরাসরি নির্দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইমরান লিয়াকত ভাট্টিকে। বর্তমানে দক্ষিণ পঞ্জাবের অপারেশনাল দিকগুলো দেখাশোনা করছেন সাজিদ বাট্ট এবং সইফুল্লা কসুরির মতো কুখ্যাত জঙ্গিরা।
আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, হাফিজ সইদ বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন। কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে তার সংগঠনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও একের পর এক রদবদল প্রমাণ করে যে, ইসলামাবাদের এই দাবি কেবল লোক দেখানো। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর কড়াকড়ি এড়াতেই পাকিস্তান সরকার এমন কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। অথচ হাফিজ সইদ কারাগারের আড়াল থেকে নিজের নেটওয়ার্ক নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
সংগঠনটির কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে এখন রাজনৈতিক মোড়ক ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে লস্কর-ই-তৈবা। তারা ‘পাকিস্তান মারকাযি মুসলিম লিগ’ নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই সংগঠনের মাধ্যমে কেবল রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টাই নয়, বরং গোপনে নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং সাংগঠনিক বিস্তারের কাজও সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে লস্কর-ই-তৈবা। এই নতুন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেশী ভারতসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস